পদ্মায় বাস ডুবি: ‘আমার সঙ্গে ফোনেই ছিল মেয়েটা, কথা বলতে বলতেই তলিয়ে গেল!’

“আমি নিজে মেয়েকে বাসে তুলে দিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর যখন ফোনে কথা বলছিলাম, ও চিৎকার করে বলল— মা, বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে! এরপর আর কোনো শব্দ পাইনি। কথা বলতে বলতেই আমার মেয়েটা চোখের সামনে নদীর তলে হারিয়ে গেল!” এভাবেই বুকফাটা আর্তনাদে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট ভারী করে তুলছিলেন মা শাহেদা বেগম। বুধবার বিকেলে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন তার ৩৫ বছর বয়সী মেয়ে জ্যোৎস্না বেগম। রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাছোঘাটা গ্রামের জ্যোৎস্না সাভারের বাইপাইলে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছে জ্যোৎস্নার আট বছর বয়সী ছেলে আলিফ। মায়ের কোলেই বসে ছিল সে। ছোট্ট আলিফ জানায়, “বাস যখন ডুবছিল, মা আমাকে জানলা দিয়ে বাইরে ঠেলে বের করে দেন। আমি সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও মাকে আর খুঁজে পাইনি।” প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে অন্তত ৪০ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি পন্টুনে পৌঁছায়। ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ইউটিলিটি ফেরি সজোরে পন্টুনে ধাক্কা দিলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে দ্রুত তলিয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বর্তমানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে, তবে এখনো নিখোঁজ অনেকের হদিস মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *