পশ্চিমবঙ্গে উন্মুক্ত জনপরিসরে কোনো প্রাণী জবাই করা ‘কঠোরভাবে নিষিদ্ধ’ থাকবে বলে জারি করা সরকারি নির্দেশ বহাল রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আসন্ন ঈদুল আজহার আগে রাজ্য সরকারের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আদেশে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
রায়ে আদালত উল্লেখ করে, উন্মুক্ত স্থানে গরু ও মহিষসহ কোনো প্রাণী জবাই করা যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়—
“উন্মুক্ত পরিসরে গরু ও মহিষসহ অন্যান্য প্রাণী জবাই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।”
আদালত আরও উল্লেখ করে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একটি মামলার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গরু কোরবানি ঈদুল আজহার বাধ্যতামূলক ধর্মীয় অংশ নয়।
সরকারের নির্দেশনা
গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, জনপরিসরে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি পশু জবাইয়ের আগে সরকারি ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ বাধ্যতামূলক করা হয়।
নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
মামলা ও প্রতিক্রিয়া
সরকারের ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রসহ একাধিক ব্যক্তি আদালতে পিটিশন দাখিল করেন।
পিটিশনে ঈদুল আজহার ধর্মীয় আচার পালনের জন্য পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর ১২ ধারা অনুযায়ী ছাড় চাওয়া হয়েছিল।
তবে আদালত জানায়, এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকেই আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহার প্রেক্ষাপটে এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
