নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ার জেরে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (রাত ৯টা) গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি শর্ষেখেত থেকে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপহরণের আগে ধর্ষণের অভিযোগ
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায় এবং তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
ঘটনার বিচার চেয়ে কিশোরীর পরিবার মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলী দেওয়ানের শরণাপন্ন হয়। তবে পরিবারটি কোনো বিচার পায়নি বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, অভিযোগ করার কারণে নূরাসহ সংশ্লিষ্টরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
বাবার কাছ থেকে অপহরণ, পরদিন মিলল লাশ
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গত বুধবার রাতে কিশোরীর বাবা মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে বের হন। বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয় তরুণ বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
সারারাত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান পাননি। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় লোকজন বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেতে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরীর মা মাধবদী থানায় ৯ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—
নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), মো. গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), ইছহাক ওরফে ইছা (৪০), আবু তাহের (৫০) ও মো. আইয়ুব (৩০)।
এর মধ্যে আহাম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি চারজন—ইমরান দেওয়ান, এবাদুল্লাহ, আইয়ুব ও গাফফার—এখনও পলাতক।
রফাদফা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের বিচারের দায়িত্ব নিয়ে আহাম্মদ আলী দেওয়ান অভিযুক্তদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি পরিবারটিকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেওয়া হয়।
বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত বাবার সামনে থেকে অপহরণের পর কিশোরীকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
বিএনপি থেকে বহিষ্কার
অভিযোগ ওঠার পর আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
