চসিক নাকি ঢাকা দক্ষিণ: কোথায় প্রার্থী হচ্ছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম?

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ভবনের কোলাজ ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন সবার নজর আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিকে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ক্লিন ইমেজের তরুণ নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজনীতির মাঠ থেকে উঠে আসা এই তরুণ নেতাকে নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা সমীকরণ। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাকে কোন নগরীর মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবে—ঢাকা দক্ষিণ নাকি তার নিজ শহর চট্টগ্রাম? এই প্রশ্নই এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের কাপে ঝড় তুলছে।

অভ্যুত্থান থেকে ডাকসু জয়: এক ধূমকেতুর উত্থান

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি হিসেবে সাদিক কায়েম যখন প্রথম জনসম্মুখে আসেন, তখন তা ছিল দেশজুড়ে এক বড় চমক। এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রকাশ্যে আসা শাশ্বত এই ছাত্রনেতা খুব দ্রুতই তার বাগ্মিতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

পরবর্তীতে ডাকসু নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়। রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার এই নিরঙ্কুশ বিজয় তাকে জামায়াতের জন্য এক তুরুপের তাসে পরিণত করেছে।

ঢাকা-৮ থেকে ঢাকা দক্ষিণ: প্রারম্ভিক গুঞ্জন

শুরুতে শোনা গিয়েছিল, জাতীয় নির্বাচনে তাকে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে। কিন্তু সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাকে মেয়র পদে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন তার অনুসারীরা। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার শক্ত অবস্থান থাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (DSCC) নির্বাচনে তাকে মেয়র প্রার্থী করার গুঞ্জন ছিল সবচেয়ে জোরালো। জামায়াতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনেক নেতাই মনে করেন, ঢাকার তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সাদিক কায়েম হতে পারেন সবচেয়ে জুতসই মুখ।

চট্টগ্রামের দাবি: নাড়ির টানে চসিক?

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন এসেছে। চট্টগ্রাম জামায়াতের একটি বড় অংশ এখন চাচ্ছে সাদিক কায়েমকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাতে। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো তার জন্মস্থান।

সাদিক কায়েম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সন্তান। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্থানীয় প্রার্থীর প্রতি এক ধরনের বিশেষ আবেগ কাজ করে। চট্টগ্রাম জামায়াতের নেতারা মনে করছেন, চসিক নির্বাচনে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করলে তা শুধু দলীয় ভোট নয়, বরং সাধারণ ভোটার ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিশাল গণজোয়ার তৈরি করবে।

সিদ্ধান্ত কোন দিকে?

সাদিক কায়েমকে নিয়ে এই দ্বিমুখী গুঞ্জন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। একদিকে ঢাকার কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব, অন্যদিকে চট্টগ্রামের নাড়ির টান—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে জামায়াত শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

যদিও এ ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে চট্টগ্রামের রাজনীতির মাঠে তাকে ঘিরে চাঞ্চল্য বেড়েই চলেছে। অনেকেই মনে করছেন, চসিক নির্বাচনে সাদিক কায়েম প্রার্থী হলে তা চট্টগ্রামের নির্বাচনি সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *